করোনা থেকে সুস্থ হয়ে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে পরামর্শও দিলেন ফয়সাল শেখ

সময় টিভি অনলাইন | প্রকাশ ৩১-০৩-২০২০, ২১:৩২
করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে উঠলেন জার্মান ফেরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ফয়সাল শেখ। জানালেন আইডিসিআরের তত্ত্বাবধানে থেকে চিকিৎসা নিয়ে প্রাণঘাতি এই ভাইরাসকে জয় করার কথা। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হবার পরামর্শও দেন এই তরুণ।




মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের অফিসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হওয়ার কথা জানান ফয়সাল শেখ। এদিকে, ফয়সালের করোনা জয়কে দেশবাসীর জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে অ্যাখ্যা দিলেন ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম। এ সময় ফয়সাল পুরোপুরি সুস্থ জানিয়ে তাকে সামাজিকভাবে গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।


মঙ্গলবার করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশব্যাপী চলমান কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে ৬৪ জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন ফয়সাল। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে যোগ দেন ফয়সাল।

এসময় ফয়সাল প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, আমি জার্মানিতে পড়াশোনা করছি। ১ তারিখ ছুটি কাটানোর জন্য দেশে আসি। ১০ দিন পর আমার খুব খারাপ লাগে। শরীরে করোনা লক্ষণ দেখা দেয়।


তিনি বলেন, আমার পরিবার ও সবার নিরাপত্তার জন্য আমি নিজে আইইডিসিআর যাই টেস্ট করানোর জন্য। টেস্ট করার পর তারা আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন। একদিন পর জানায় পজিটিভ এসেছে। আইইডিসিআর আমাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখতে চাইলে রাজি হই। কুয়েত মৈত্রী হসপিটালে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। সেখানে আমি ১০ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকি। আমার বন্ধু-বান্ধব, পরিবারের যাদের সঙ্গে দেখা হয়েছিল তাদের সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল। ১০ দিন পর বারবার টেস্ট করার পর নেগেটিভ আসে। এরপর আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে যাই।


তিনি বলেন, দেশের মানুষের কাছে একটাই অনুরোধ-করোনাভাইরাসের সবচেয়ে বড় ব্যাপার বাসায় থাকা, ঘরে থাকা। যতদিন ঘরে থাকতে বলা হয়েছে ততদিন ঘরে থাকুন। তাহলে আমরা সবাই নিরাপদ থাকতে পারবো। এর সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারবো।

এ সময় করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হওয়া ফয়সালকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা খুব খুশি তুমি সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে গেছ। মায়ের সন্তান মায়ের কোলে ফিরে গেছে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের মাঝে ফয়সালকে নিয়ে আসার কারণ হচ্ছে; সে সুস্থ হয়েছে এবং আইইডিসিআর সার্টিফিকেট দিয়েছে। কিন্তু সামাজিকভাবে সে স্বীকৃতি পেয়েছে? সে পায়নি। সামাজিকভাবে স্বীকৃত পাওয়ার জন্য তাকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। ডাক্তাররা তাকে সুস্থ করে তুলেছেন। করোনায় মোকিবেলায় ডাক্তারাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা।

Post a Comment

0 Comments